শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ: ডিপিই-এর নির্দেশনা
দেশের সকল প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ এবং প্রচার-প্রচারণার কাজে ব্যবহার না করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE)। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মূল নির্দেশনা ও প্রেক্ষাপট
গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই আদেশে বলা হয়েছে যে, এখন থেকে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরণের সভা, সমাবেশ বা প্রচারণামূলক কাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
মূলত ঢাকার সেগুনবাগিচাস্থ রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত একটি পত্রের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অধিদপ্তর।
নির্দেশনার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
নিষেধাজ্ঞার আওতা: যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা, ধর্মীয় বা সামাজিক বড় সমাবেশ এবং বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো প্রচার-প্রচারণা।
বাস্তবায়নকারী: বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসারদের নিজ নিজ অধিনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উদ্দেশ্য: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখা।
প্রশাসনের অবস্থান
অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে পালন করতে হবে। এছাড়া পিটিআই (PTI) এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারগুলোকেও (URC) এই আদেশের আওতায় আনা হয়েছে। আদেশের অনুলিপি মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দপ্তরেও সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের মতে, অনেক সময় স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা বড় সমাবেশের কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হয় এবং আসবাবপত্রের ক্ষতি হয়। এই নতুন নির্দেশনার ফলে স্কুলগুলোতে পড়ালেখার সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


