Pay Fixation । বেতন নির্ধারণ

৯ম পে-স্কেল চার্ট ২০২৬ : বৈষম্যের বৃত্তে কি নিম্ন-মধ্যবিত্ত কর্মচারীরা?

দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৯ম জাতীয় বেতন স্কেলের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিয়েছে কমিশন। প্রস্তাবিত এই স্কেলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনার দাবি করা হলেও, বেতন কাঠামোর ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও বঞ্চনার সুর স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বেতন কাঠামোর চিত্র: কার কত বাড়ছে?

কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। যেখানে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং ১ম গ্রেডের বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

নিচে আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ গ্রেডগুলোর একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

গ্রেডবর্তমান মূল বেতন (২০১৫)প্রস্তাবিত মূল বেতন (২০২৬)বৃদ্ধির হার (প্রায়)
১ম গ্রেড৭৮,০০০ (নির্ধারিত)১,৬০,০০০১০৫%
৯ম গ্রেড২২,০০০৪৫,১০০১০৫%
১০ম গ্রেড১৬,০০০৩২,০০০১০০%
১১তম গ্রেড১২,৫০০২৫,০০০১০০%
১২শতম গ্রেড১১,৩০০২৪,৩০০১১৫%
২০তম গ্রেড৮,২৫০২০,০০০১৪২%

বিশ্লেষণে ‘বঞ্চিত’ যারা: ১০, ১১ ও ১২তম গ্রেড

আপনার পর্যবেক্ষণের সাথে একমত পোষণ করছেন অনেক অর্থনীতিবিদ ও কর্মচারী সংগঠন। তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

১. প্রাপ্য বনাম বাস্তবতা: ১০ম ও ১১তম গ্রেডে যারা কর্মরত (যেমন: উপ-সহকারী প্রকৌশলী, নার্স, বা সিনিয়র সহকারী), তাদের কাজের দায়িত্ব ও সামাজিক মর্যাদার তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার ওপরের গ্রেডগুলোর তুলনায় ভারসাম্যহীন। ৯ম গ্রেডের বেতন যেখানে ৪৫,১০০ টাকা, সেখানে ১০ম গ্রেডে তা মাত্র ৩২,০০০ টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক ধাপের ব্যবধানে বেতনের পার্থক্য ১৩,১০০ টাকা

২. জ্যামিতিক হারের অভাব: নিচের দিকে (১৫-২০তম গ্রেড) জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় যে হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে, মধ্যম সারির গ্রেডগুলোতে সেই প্রতিফলন কম। বিশেষ করে ১১ ও ১২তম গ্রেডের ব্যবধান অত্যন্ত নগণ্য (মাত্র ৭০০ টাকা), যা পদোন্নতির আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

৩. বাজার মূল্যের চাপ: বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে একজন ১০ম বা ১১তম গ্রেডের কর্মচারীর জন্য ৩২,০০০ বা ২৫,০০০ টাকা দিয়ে ঢাকা বা চট্টগ্রাম শহরে মানসম্মত জীবনযাপন করা চ্যালেঞ্জিং। অথচ ৯ম গ্রেড ও তার উপরের কর্মকর্তাদের জন্য বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার (গাড়ি সুবিধা ইত্যাদি) যে বিশাল লম্ফন দেখা যাচ্ছে, তা মধ্যম সারির কর্মচারীদের মাঝে ‘আপেক্ষিক বঞ্চনা’ তৈরি করছে।

জনমনে প্রতিক্রিয়া

সাধারণ কর্মচারীদের মতে, ২০তম গ্রেড থেকে ১৬তম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির হার প্রশংসনীয় হলেও মধ্যম সারির পদগুলোতে বৈষম্য রয়েই গেছে। যদি ১০ম গ্রেডকে অন্তত ৩৫-৪০ হাজার টাকার আশেপাশে রাখা না হয়, তবে এই বেতন কাঠামোতে শিক্ষিত মধ্যম আয়ের কর্মচারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কমিশন এই প্রতিবেদন জমা দিলেও এটি এখনো চূড়ান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ হয়নি। পর্যালোচনা কমিটির মাধ্যমে এই গ্রেডগুলোর বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hacklink Hacklink Satış бэклинки marsbahis hacklink market casibom marsbahis - marsbahis giriş