ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে পে-স্কেল আদায়ের লড়াইয়ে সরকারি কর্মচারীরা: ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আল্টিমেটাম
সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি ‘পে-স্কেল’ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙলেও, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের নির্বাচন ভণ্ডুলের অপচেষ্টা ও প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন সাধারণ কর্মচারীরা। আন্দোলনকারী নেতাদের মতে, বৈষম্যমুক্ত পে-স্কেলের যৌক্তিক দাবিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা কর্মচারীরা সফলভাবে রুখে দিয়েছেন।
ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একটি নির্দিষ্ট পক্ষ সরকারি কর্মচারীদের কাঁধে ভর করে নির্বাচন বানচাল করার নীল নকশা সাজিয়েছিল। তারা কর্মচারীদের বিভ্রান্ত করতে নেতাদের নামে মিথ্যা প্রেস রিলিজ এবং উস্কানিমূলক প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন:
তাদের লক্ষ্য কেবল নতুন পে-স্কেল ও বৈষম্য নিরসন, কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়।
ষড়যন্ত্রকারীরা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চাইলেও সাধারণ কর্মচারীরা কেবল নিজেদের অধিকার আদায়ের দাবিতেই অনড় ছিলেন।
অচলায়তন ভেঙেছে, তবে কাটেনি বৈষম্য
দীর্ঘদিন পে-স্কেল নিয়ে যে স্থবিরতা ছিল, বর্তমান আন্দোলনের ফলে তা কেটেছে। তবে কর্মচারীদের প্রত্যাশা ছিল বর্তমান সরকারই একটি পূর্ণাঙ্গ বৈষম্যমুক্ত পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করবে। প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে নেতারা বলছেন, “আমরা এই সরকারের আমলেই প্রজ্ঞাপন চেয়েছিলাম। বৈষম্যবিরোধী সরকারের কাছে বৈষম্যমুক্ত পে-স্কেলের আশা ছিল যৌক্তিক।”
পে-স্কেল এখন সময়ের দাবি
আন্দোলনের ফলে বর্তমানে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে যারা পে-স্কেলের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করতেন, তারাও এখন এর যৌক্তিকতা স্বীকার করছেন। আন্দোলনকারীরা মনে করেন, তারা দাবিটিকে এমন একটি সার্বজনীন অবস্থায় নিয়ে গেছেন যে, আগামীতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা নতুন পে-স্কেল দিতে বাধ্য হবে।
আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা
দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল রাখার স্বার্থে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্দোলনকারীরা আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারকে সময় দিয়েছেন। তবে এটি কোনোভাবেই আন্দোলন থেকে পিছু হটা নয়, বরং একটি কৌশলগত বিরতি মাত্র।
“আমাদের আন্দোলন চলমান আছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু রাখার স্বার্থে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।” — আন্দোলনকারী প্রতিনিধি
সারসংক্ষেপ: আন্দোলনের বর্তমান গতিপ্রকৃতি
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
| প্রধান লক্ষ্য | নতুন ও বৈষম্যমুক্ত পে-স্কেল আদায়। |
| ষড়যন্ত্র মোকাবিলা | নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা প্রত্যাখ্যান। |
| সাফল্য | পে-স্কেল নিয়ে সামাজিক ও প্রশাসনিক জনমত গঠন। |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | ১৯ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা (যদি দাবি পূরণ না হয়)। |

