সর্বশেষ প্রকাশিত

📢 পে-স্কেল আন্দোলনে ফের আলোচনার কেন্দ্রে শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী

বর্তমান সময়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি ও এমপিওভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যে আন্দোলন বিরাজ করছে, তাতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী এক জনপ্রিয় ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও ধারাবাহিক আন্দোলনের কারণে সমগ্র বাংলাদেশের পেশাজীবী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

🤝 একযোগে আন্দোলনের ডাক

শিক্ষক নেতা দেলোয়ার হোসেন আজিজী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেলের দাবিতে ঘোষিত আন্দোলনগুলোতেও একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘৫ আগস্টের পরের এই বাংলাদেশে বৈষম্য মেনে নেয়া হবে না। অবিলম্বে গ্রেডের সংখ্যা কমিয়ে পে স্কেল ঘোষণা করতে হবে।’

পে কমিশন ঘোষণা হওয়ার পর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গে তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন, যদি পে-স্কেল দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে কেন এই তালবাহানা করা হলো? তাঁর এই সরাসরি ও স্পষ্ট বক্তব্য সারাদেশের শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

🏛️ বেতন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক ও আল্টিমেটাম

  • আলোচনায় অংশগ্রহণ: তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জাতীয় বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষকদের দাবি পূরণের বিষয়ে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। এটি প্রমাণ করে, তিনি শুধু রাজপথে নন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও শিক্ষকদের দাবি তুলে ধরছেন।

  • দাবি আদায়ে কঠোর মনোভাব: সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীরা ১৫ ডিসেম্বরের (সোমবার) মধ্যে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির যে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, সেই আন্দোলনেও অধ্যক্ষ আজিজীর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। যদিও সরকারি কর্মচারীরা আপাতত আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ে আগ্রহী হয়েছেন, কিন্তু শিক্ষকদের আন্দোলনে তাঁর ধারাবাহিক উপস্থিতি পে-স্কেল প্রত্যাশী সকল পেশাজীবীকে ঐক্যবদ্ধ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

📣 কেন তিনি জনপ্রিয়?

অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীর নেতৃত্ব এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণের পাশাপাশি বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে সফলতার মুখ দেখিয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠিত আন্দোলনে দেশের প্রায় ৩০ হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে বন্ধ ছিল এবং পরে সরকারের আশ্বাসে (বাড়িভাড়া ২০ শতাংশ বৃদ্ধিসহ) তা স্থগিত হয়।

পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই স্পর্শকাতর মুহূর্তে সকল পেশাজীবী এক সুরে কথা বলার এবং তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য একজন সাহসী, স্পষ্টভাষী ও অভিজ্ঞ নেতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। ঠিক এই কারণেই অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বর্তমানে সারাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং জনপ্রিয় নাম হিসেবে উঠে এসেছেন।

সরকারি কর্মচারীগন কি নেতা হারিয়ে ফেলছে?

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের চলমান আন্দোলন ও আল্টিমেটাম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা নেতৃত্ব সম্পূর্ণভাবে না হারালেও এই মুহূর্তে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যে আছেন। আল্টিমেটাম সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো কঠোর কর্মসূচি দিতে না পারায় এই ধারণা আরও জোরালো হচ্ছে।

নিচে তথ্য বিশ্লেষণ করে মূল কারণগুলো তুলে ধরা হলো:


১. নেতৃত্বের দৃশ্যমান দুর্বলতা ও কৌশলগত পরিবর্তন

  • আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ: সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো (যেমন: বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদ, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ) ১৫ ডিসেম্বরের (সোমবার) মধ্যে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছিল। সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সরকার কোনো ঘোষণা দেয়নি।

  • কঠোর কর্মসূচি থেকে পিছু হটা: আল্টিমেটামের আগে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও, সময় শেষে নেতারা আপাতত রাজপথের বড় কর্মসূচিতে না গিয়ে আলোচনা ও বিধিমালা মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছেন।

  • আলোচনার পথ অবলম্বন: বর্তমানে নেতারা অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য চিঠি দিয়ে উত্তরের অপেক্ষায় আছেন। এটি আপাতত ‘আন্দোলন’ থেকে ‘আলোচনা’র পথে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব বেল্লাল হোসেন এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি জিয়াউল হক আলোচনায় সমাধান চাওয়ার কথা বলেছেন।

  • ভীতি ও শঙ্কা: সম্প্রতি সচিবালয়ে আন্দোলনকারীদের দমন প্রক্রিয়া এবং প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন পরবর্তী সরকারি পদক্ষেপগুলো কর্মচারী নেতাদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে বলে সংবাদ সূত্রে জানা যায়। এটি নেতাদের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে দ্বিধা সৃষ্টি করছে।

২. সংগঠনের উপস্থিতি, কিন্তু একক নেতার অভাব

যদিও বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ-এর ব্যানারে মো. বাদিউল কবির (সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ-এর সভাপতি), মাহমুদুল হাসান (১১-২০ গ্রেড ফোরামের সাধারণ সম্পাদক), বেল্লাল হোসেন, খায়ের আহমেদ মজুমদার প্রমুখ নেতারা সক্রিয় আছেন, তবুও সমগ্র কর্মচারীদের মধ্যে ‘একক, অপ্রতিরোধ্য’ নেতার অভাব অনুভূত হচ্ছে, যার কথায় সকলে রাজপথে নেমে আসবেন। বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কথা বললেও, একক মঞ্চ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে দেরি হচ্ছে।

৩. বৈষম্যের নতুন সঙ্কট: ‘সচিবালয় ভাতা’

পে-স্কেলের আলোচনার মধ্যে সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০% সচিবালয় ভাতার দাবিতে আন্দোলন এবং তা আদায়ের ঘটনাটি অন্য সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, কিছু প্রভাবশালী পক্ষ নিজেদের দাবি আদায় করে নেওয়ায়, পে-স্কেলের মূল দাবি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ভাটা পড়তে পারে।

➡️ মূল্যায়ণ

সরকারি কর্মচারীরা এই মুহূর্তে নেতা হারিয়ে ফেলেননি, বরং তাদের আন্দোলনটি এখন একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে। আন্দোলনের নেতৃত্ব একাধিক সংগঠনের হাতে থাকলেও, আল্টিমেটাম শেষে সরকারের কঠোর মনোভাব এবং অভ্যন্তরীণ বিভেদজনিত কারণে নেতারা কৌশল পরিবর্তন করে আপাতত আলোচনায় সমাধানের চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতি যত দীর্ঘ হবে, কর্মচারীদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং আন্দোলনের উদ্দীপনা তত কমতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hacklink Hacklink Satış бэклинки marsbahis hacklink market casibom marsbahis - marsbahis giriş