সর্বশেষ প্রকাশিত

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নিম্নবেতন: দিশেহারা ৩য় ও ৪থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারীরা

দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে যখন নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের, তখন চরম সংকটে দিনাতিপাত করছেন সরকারি দপ্তরের ৩য় ও ৪থ শ্রেণির কর্মচারীরা। ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী বর্তমান সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা। আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের এই সময়ে এই সামান্য আয়ে পরিবার চালানো তো দূরের কথা, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে লাখ লাখ কর্মচারীর।

গাণিতিক হিসেবে জীবন বনাম বাস্তবতা

বিশ্লেষণে দেখা যায়, একজন সর্বনিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর দৈনিক আয় দাঁড়ায় মাত্র ২৭৫ টাকা। যেখানে একজন অদক্ষ শ্রমিকের দৈনিক মজুরিও বর্তমানে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, সেখানে রাষ্ট্রের একজন সেবকের এই আয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের এক চরম বহিঃপ্রকাশ।

ভাতার নামে কি ‘তামাশা’ চলছে? কর্মচারীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ভাতার পরিমাণ:

  • টিফিন ভাতা: মাসে ২০০ টাকা, যা দিনে মাত্র ৬.৬৬ টাকা। বর্তমান বাজারে এই টাকায় এক কাপ চাও পাওয়া দুষ্কর।

  • চিকিৎসা ভাতা: মাসে ১,৫০০ টাকা। আধুনিক চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় যা নগণ্য। হাসপাতালের সাধারণ আউটডোর টিকিট ও যাতায়াত খরচেই এই টাকা শেষ হয়ে যায়।

ঋণের জালে বন্দি জীবন

মাঠ পর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশ ৩য় ও ৪থ শ্রেণির কর্মচারী মাস শেষ হওয়ার আগেই ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, “বুক ফুলিয়ে মানুষ বলে সরকারি চাকরি করি, কিন্তু মাস শেষে দোকানদারকে মুখ দেখাতে পারি না। বাচ্চাদের পড়াশোনা আর ওষুধের খরচ মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত অপমান সইতে হচ্ছে।”

সামাজিক বৈষম্য ও জনরোষ

সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, সরকারি চাকরিজীবীরা প্রচুর সুবিধা পান। কিন্তু এই ‘সুবিধা’ শব্দটির সুবিধাভোগী আসলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। নিম্নধাপের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই ধারণাটি কেবলই একটি মিথ। রিকশাচালক বা দিনমজুরের আয়ের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, তারা স্বাধীনভাবে বাজার পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে আয় বাড়াতে পারলেও, সরকারি কর্মচারীরা একটি নির্দিষ্ট এবং অপর্যাপ্ত কাঠামোর ভেতরে বন্দি।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

অর্থনীতিবিদদের মতে, বেতন কাঠামো ও দ্রব্যমূল্যের মধ্যে যদি সামঞ্জস্য না থাকে, তবে প্রশাসনে দুর্নীতির প্রবণতা বাড়ে এবং কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হয়। একটি উন্নত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

“২৭৫ টাকায় একজন মানুষ সারাদিন শ্রম দেবে—এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, একটি মানবিক সংকটও বটে।”

সরকারি সেবার চাকা যারা সচল রাখেন, সেই নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা যদি পেটে ক্ষুধা আর মনে অপমান নিয়ে কাজ করেন, তবে রাষ্ট্রের উন্নয়ন টেকসই হওয়া কঠিন। সময় এসেছে আবেগের বদলে বাস্তবতার আয়নায় এই মানুষগুলোর জীবনকে দেখার এবং দ্রুত একটি সম্মানজনক নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hacklink Hacklink Satış бэклинки marsbahis hacklink market casibom marsbahis - marsbahis giriş