চমেক হাসপাতালে কর্মচারী ইউনিয়নের বিক্ষোভ: ‘বৈষম্যমুক্ত’ নবম পে স্কেলের দাবি
চট্টগ্রাম: ‘বৈষম্যমুক্ত’ নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ও হাসপাতালের কর্মচারী ইউনিয়ন বিক্ষোভ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে হাসপাতালের গেট সংলগ্ন এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকালে কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম দেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
‘বৈষম্যমুক্ত’ নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ।
ন্যূনতম বেতন ৩৩ হাজার টাকা নির্ধারণ।
১:৪ অনুপাতে বেতন নির্ধারণ।
কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই তিনটি দাবিসহ মোট সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ না হলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।
কেমন বেতন কাঠামো চায় তারা?
তারা মূলত ‘বৈষম্যমুক্ত’ নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মূল দাবির মধ্যে যে বেতন কাঠামো সংক্রান্ত বিষয়গুলি রয়েছে, সেগুলি হলো:
পে স্কেল: ‘বৈষম্যমুক্ত’ নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ।
সর্বনিম্ন বেতন: ৩৩ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ।
বেতন অনুপাত: ১:৪ অনুপাতে বেতন নির্ধারণ।
বিভিন্ন সংগঠন পে কমিশনের নিকট কেমন বেতন কাঠামো দাবী করেছে?
বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তা সংগঠন জাতীয় বেতন কমিশনের (পে কমিশন) কাছে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য নানা ধরনের প্রস্তাব ও দাবি জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বেতন কাঠামো নিয়ে উত্থাপিত উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন স্কেল
সর্বনিম্ন বেতন: বিভিন্ন সংগঠন ২৫,০০০ টাকা থেকে ৩৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সর্বনিম্ন বেতনের প্রস্তাব দিয়েছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি প্রস্তাব করেছে ২৫,০০০ টাকা।
বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন প্রস্তাব করেছে ৩৫,০০০ টাকা।
১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরাম প্রস্তাব করেছে ৩২,০০০ টাকা।
সর্বোচ্চ বেতন: সর্বোচ্চ বেতনের ক্ষেত্রেও একাধিক প্রস্তাব রয়েছে:
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি প্রস্তাব করেছে ১,৫০,০০০ টাকা (দেড় লাখ টাকা)।
বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন প্রস্তাব করেছে ১,৪০,০০০ টাকা।
১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরাম প্রস্তাব করেছে ১,২৮,০০০ টাকা।
বেতন গ্রেড ও অনুপাত
বেতন গ্রেড কমানো: বিদ্যমান ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১২টি বা ১৫টি গ্রেডে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বেতন অনুপাত (Ratio): বেশিরভাগ সংগঠন ১:৪ অনুপাতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছে।
বর্তমানে এই অনুপাতটি ১:১০ রয়েছে বলে জানা গেছে, যা কমিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
️ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবি
পে স্কেলের নাম: দ্রুত ‘বৈষম্যমুক্ত’ নবম পে স্কেল এর গেজেট প্রকাশ করা।
ভাতা বৃদ্ধি: বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং অন্যান্য ভাতা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
চিকিৎসা ভাতা $১,৫০০$ টাকা থেকে বাড়িয়ে $২,৫০০$ বা $৫,০০০$ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে, এমনকি মূল বেতনের ১০ শতাংশ নির্ধারণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যান্য সুবিধা: টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করা এবং রেশন পদ্ধতি চালু করারও দাবি জানানো হয়েছে।
সংক্ষেপে, কর্মচারী সংগঠনগুলোর মূল লক্ষ্য হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধি, বেতন বৈষম্য কমানো এবং পুরোনো সুবিধাগুলো পুনর্বহাল করা।

