বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস ২০২৫ । আজ সরকারি চাকরি নিয়ে নতুন কি কি আইন হয়েছে?
২০২৫ সালে বাংলাদেশের সরকারি চাকরির বিধিমালা এবং আইন-কানুন নিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন ও নতুন সংযোজন আনা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো:
আজ, ২৭ অক্টোবর ২০২৫, সরকারি চাকরি বা “বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস” সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা আইন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে আলোচনা ও পরিবর্তনগুলো হয়েছে, তার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো। তবে এটি মনে রাখতে হবে যে, “বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস” বলতে সাধারণভাবে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এবং এর অধীন প্রণীত বিভিন্ন বিধিমালাকে বোঝানো হয়।
আজকের (২৭ অক্টোবর ২০২৫) সবচেয়ে আলোচিত বা সাম্প্রতিক বিধিমালা/আইন সংক্রান্ত খবর:
- সরকারি চাকরি (প্রার্থীর প্রাক-পরিচয় যাচাই) বিধিমালা-২০২৫ (খসড়া চূড়ান্ত):
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এই বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে।
- এর উদ্দেশ্য হলো সুপারিশকৃত প্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা।
- এই বিধিমালায় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে, কোন কোন পরিস্থিতিতে একজন প্রার্থীকে সরকারি চাকরির জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করা যাবে।
- প্রার্থীকে কেন অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, তা অবগত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
- অনুপযুক্ত ঘোষিত ব্যক্তির পুনঃবিবেচনার জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকবে এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ চাইলে পুনঃতদন্তের এখতিয়ার পাবে।
- বিসিএসসহ সকল সরকারি চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে এই বিধি প্রযোজ্য হবে।
- এটি এখনও চূড়ান্তভাবে গেজেট আকারে জারি হয়নি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হবে।
২০২৫ সালে সরকারি চাকরিতে হওয়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন:
২০২৫ সালে সরকারি চাকরি আইন, বেতন, ও অন্যান্য বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে:
১. সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (কার্যকর: ২৩ জুলাই ২০২৫): * এটি সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর অধিকতর সংশোধন। * এতে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও দণ্ড সংক্রান্ত বিশেষ বিধান (ধারা ৩৭ক) পরিবর্তন করা হয়েছে। * অসদাচরণের সংজ্ঞা পরিবর্তন ও নতুন বিধান: ‘অনানুগত্যের’ মতো বিতর্কিত শব্দ পরিবর্তন করে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রধানত তিনটি বিষয়কে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে: * ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করা বা সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া/প্ররোচিত করা। * ছুটি বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অন্যান্য কর্মচারীদের সাথে সমবেতভাবে কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত থাকা বা বিরত থাকা। * অন্যান্য সরকারি কর্মচারীকে কাজে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া। * শাস্তির বিধান: অসদাচরণের জন্য নিম্নপদ বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মতো দণ্ড দেওয়া যাবে। * তদন্ত ও আপিল: শাস্তি আরোপের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রাখা হয়নি, সেক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।
২. বিশেষ ইনসেনটিভ (বেতন সংক্রান্ত পরিবর্তন): * ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ইনসেনটিভ (বিশেষ সুবিধা) অনুমোদন করা হয়েছে (জুলাই ২০২৫ থেকে কার্যকর)। * গ্রেডভিত্তিক বিশেষ ইনসেনটিভ: * গ্রেড ১১ থেকে ২০-এর কর্মচারীরা বিদ্যমান ৫% এর সাথে অতিরিক্ত আরও ১০% (মোট ১৫%) বিশেষ ইনসেনটিভ পাবেন। * গ্রেড ১ থেকে ৯-এর কর্মচারীরা বিদ্যমান ৫% এর সাথে অতিরিক্ত আরও ৫% (মোট ১০%) বিশেষ ইনসেনটিভ পাবেন। * মহিলা ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধন): সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান বাতিল করা হয়েছে।
৩. সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট: * সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে ১লা নভেম্বর ২০২৫ থেকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সরকারি চাকরির বিধিমালা বা আইনগুলো প্রতিনিয়ত গেজেট, পরিপত্র বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধিত বা পরিবর্তিত হতে পারে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় (যেমন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ) বা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রকাশিত গেজেট বা পরিপত্র অনুসরণ করা উচিত।

