সর্বশেষ প্রকাশিত

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল রাজপথ: ৫ ফেব্রুয়ারি কর্মবিরতি ও ৬ ফেব্রুয়ারি যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার ডাক

দ্রুত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারী মহলে তীব্র গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। দাবি আদায়ে আন্দোলন আরও বেগবান করতে ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’ আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পরিষদের শীর্ষ নেতাদের আলোচনায় উঠে এসেছে যে, এই লড়াই এখন আর সাধারণ আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ঘোষিত কর্মসূচি ও আন্দোলনের রূপরেখা

আন্দোলনরত সংগঠনগুলো তাদের লক্ষ্য অর্জনে ধাপে ধাপে কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটছে:

  • ৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার): সারা দেশে সব সরকারি দপ্তরে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। এই সময়ে দাপ্তরিক কাজ বন্ধ রেখে দাবি আদায়ে সোচ্চার থাকবেন কর্মচারীরা।

  • ৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার): রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বিশাল মহাসমাবেশ। সমাবেশ শেষে কর্মচারীরা গণমিছিল নিয়ে যমুনা (প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়) অভিমুখে পদযাত্রা করবেন।

কেন এই আন্দোলন?

আন্দোলনরত নেতাদের মতে, ২০১৫ সালের সর্বশেষ পে-স্কেলের পর দীর্ঘ এক দশকেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে সাধারণ কর্মচারীদের নাভিশ্বাস উঠলেও বেতন বাড়েনি আনুপাতিক হারে। তাদের মূল দাবিগুলো হলো:

  1. অবিলম্বে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা।

  2. পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগে অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ ভাতা প্রদান।

  3. বেতন বৈষম্য নিরসন এবং গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে আনা।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন,

“দেশব্যাপী কর্মচারীদের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ তৈরি হয়েছে, তা কোনো বাধা দিয়ে থামানো যাবে না। আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী, তবে পেটে ক্ষুধা নিয়ে রাজপথ ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের দাবি মানা না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।”

কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সচিবালয় ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু এই আন্দোলন। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মচারীরা বলছেন, ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি সফল করতে তারা চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাদের স্লোগান এখন একটাই— “গেজেট চাই এখনই, বাস্তবায়ন চাই আজই!”


উপসংহার: প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রাণশক্তি হলো এই সরকারি কর্মচারীরা। তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিরসনে সরকার কী ভূমিকা নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা। ৬ ফেব্রুয়ারির পদযাত্রা কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hacklink Hacklink Satış бэклинки marsbahis hacklink market casibom marsbahis - marsbahis giriş