‘বাঁচলে সবাই একসাথে, জেলে গেলেও সবাই’: ৬ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি ঘিরে কর্মচারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি
বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও ৭ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারা দেশের সরকারি কর্মচারী সমাজ। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ঘোষিত ‘ভুখা মিছিল’ ও পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায়ে তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ইউনিট কমিটির সভায় কর্মচারীদের একটিই স্লোগান ধ্বনিত হচ্ছে— “৬ তারিখ যদি একজন কর্মচারীও গ্রেপ্তার হয়, তবে আমরা সবাই গণগ্রেপ্তার হবো। বাঁচলে সবাই একসাথে বাঁচবো, আর জেলে গেলেও সবাই একসাথে যাবো। দেখবো জেলে কত জায়গা আছে!”
আন্দোলনের পটভূমি
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যে পে-কমিশন গঠন করলেও গেজেট প্রকাশে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। এর প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনের মেয়াদ বাড়িয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি এবং ৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ঐক্য পরিষদ।
৬ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি ও কঠোর অবস্থান
কর্মচারী নেতাদের মতে, ৬ ফেব্রুয়ারির পদযাত্রা কেবল একটি সাধারণ মিছিল নয়, এটি কর্মচারীদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার বহিঃপ্রকাশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী নেতা বলেন, “আমরা বছরের পর বছর অবহেলিত। আমাদের মৌলিক অধিকারের জন্য রাজপথে নামতে হচ্ছে। সরকার যদি বলপ্রয়োগ করে আমাদের দমানোর চেষ্টা করে, তবে হিতে বিপরীত হবে।”
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে:
৬ ফেব্রুয়ারির আগে গেজেট প্রকাশ না হলে ‘ভুখা মিছিল’ শোক মিছিলে রূপ নিতে পারে।
কোনো কর্মীকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হলে সারা দেশে একযোগে ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হতে পারে।
প্রয়োজনে তারা গণগ্রেপ্তার বরণ করে কারাগার পূর্ণ করে দেবেন, তবুও দাবি থেকে পিছু হটবেন না।
বিরাজমান পরিস্থিতি
বর্তমানে সচিবালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরগুলোতে কর্মচারীদের মধ্যে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীরা ইতিমধ্যে কর্মবিরতি পালন করছেন।
৬ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচির পূর্বে সরকার কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নিলে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার নজর আগামী শুক্রবারের দিকে—সেদিন কি কর্মচারীদের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটবে, নাকি রাজপথ আরও উত্তপ্ত হবে?

