সর্বশেষ প্রকাশিত

📢 চরম অসন্তোষে সরকারি কর্মচারীরা: দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি, ১৫ ডিসেম্বরের আল্টিমেটাম

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। বর্তমান বেতন কাঠামো (২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেল) দিয়ে চরম অসচ্ছলতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন উল্লেখ করে, তারা অবিলম্বে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন। এই দাবিতে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে মহাসমাবেশ ও আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে এবং ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের আল্টিমেটাম দিয়েছে।

💸 অসায়ত্বের কারণ: বেতন বনাম জীবনযাত্রার ব্যয়

  • বিশাল ব্যবধান: ২০১৫ সালের পে-স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের (গ্রেড-২০) মূল বেতন ছিল ৮,২৫০ টাকা। অন্যদিকে, বিভিন্ন গবেষণা ও পে-কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজারে ৬ সদস্যের একটি পরিবারের ন্যূনতম মাসিক ব্যয় প্রায় ৫৯,০০০ টাকা। বর্তমান স্বল্প বেতনে এই ব্যয় নির্বাহ করা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

  • মুদ্রাস্ফীতি: ২০১৫ সালের পর বেতন বৃদ্ধি না পাওয়ায় এবং ক্রমাগত উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত আয় বহুলাংশে কমে গেছে।

  • বেতন বৈষম্য: কর্মচারীদের অভিযোগ, নিম্ন গ্রেডগুলোতে বেতন বৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছে। তারা ১:৪ অনুপাতে গ্রেড নির্ধারণ করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন।

📣 কর্মচারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি

সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ এবং সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:

  • ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট জারি: অবিলম্বে নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা।

  • কার্যকর তারিখ: আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা।

  • অন্যান্য দাবি: ২০১৫ সালের পে-স্কেলে বাতিল হওয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করা, শতভাগ পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সামরিক-আধা সামরিক বাহিনীর মতো নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশনিং পদ্ধতি চালু করা।

  • কর্মসূচি: ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশিত না হলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

🏛️ সরকারের প্রস্তুতি ও নির্দেশনা

গত ২৪ জুলাই, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য একটি পে কমিশন গঠন করা হয়েছিল এবং কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এ হিসেবে তাদের হাতে সময় রয়েছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন যে পে-স্কেল ঘোষণা করা একটি সহজ কাজ নয়, এতে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। তবে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটি সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের সম্ভাব্য আন্দোলনের আশঙ্কায় দ্রুত পে-স্কেল সংক্রান্ত কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সরকারি কর্মচারীদের বেতনের সামঞ্জস্য বিধান করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন হলে তা কেবল কর্মচারীদের অসচ্ছলতা দূর করবে না, বরং তাদের কর্মজীবনের উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে প্রশাসনিক কাজে আরও গতি আনবে।

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং কর্মচারীদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।

৬ সদস্যের পরিবারে এখন মাসে খরচ কত লাগে?

৬ সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক খরচ কতো হবে, তা নির্ভর করে তারা ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করছে নাকি মধ্যম মানের জীবনযাপন করছে এবং পরিবারটি কোথায় (ঢাকা/অন্য শহর/গ্রাম) থাকে তার উপর।

সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ৬ সদস্যের একটি পরিবারের ন্যূনতম মাসিক খরচ একটি বড় অঙ্কে পৌঁছেছে।

📊 ৬ সদস্যের পরিবারের আনুমানিক মাসিক ব্যয়ের হিসাব

বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৬ সদস্যের একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য নিম্নলিখিতভাবে খরচ হতে পারে:

খরচের খাতন্যূনতম প্রয়োজন (টাকা)মন্তব্য
খাবার ও নিত্যপণ্য২৫,০০০ – ২৭,০০০(মাছ-মাংস খুবই সীমিত রেখে, কেবল ভাত, ডাল ও আলুভর্তার মতো সাধারণ খাবার ধরে)
বাসস্থান (বাড়ি ভাড়া)১২,০০০ – ২৫,০০০(এলাকাভেদে এই খরচ অনেক কম-বেশি হতে পারে; ১২,০০০ টাকা ঢাকার দূরবর্তী এলাকার ছোট বাসস্থানের জন্য, আর ২৫,০০০ টাকা তুলনামূলক ভালো এলাকার জন্য)
শিক্ষা খরচ৫,০০০ – ৭,০০০(সন্তানের সংখ্যা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল)
চিকিৎসা ও ওষুধ৪,০০০ – ৬,০০০(সাধারণ অসুস্থতা ও নিয়মিত ওষুধ ধরে)
ইউটিলিটি ও অন্যান্য বিল৩,০০০ – ৪,০০০(বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট)
যাতায়াত৩,০০০ – ৫,০০০(পরিবহন খরচ)
পোশাক, বিবিধ ও সঞ্চয়৫,০০০ – ৮,০০০(বিবিধ কেনাকাটা ও জরুরী খরচ)
মোট ন্যূনতম মাসিক ব্যয়প্রায় ৫৮,০০০ – ৭২,০০০ টাকা(বাড়ি ভাড়া এবং অন্যান্য সুবিধার ভিত্তিতে এই পরিসরটি কম-বেশি হতে পারে)

সংক্ষেপে:

  • ন্যূনতমভাবে একটি পরিবারকে বর্তমান বাজারে টিকে থাকতে হলে প্রতি মাসে প্রায় ৫৮,০০০ থেকে ৫৯,০০০ টাকা আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

  • যদি পরিবারটি মাছ-মাংস নিয়মিত রেখে মধ্যম মানের জীবনযাত্রা চায়, তবে খাদ্য ও অন্যান্য খাতে ব্যয় আরও ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা বেড়ে যেতে পারে, ফলে মোট খরচ ৮০,০০০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।

এই হিসাবগুলো কেবল একটি আনুমানিক ধারণা দেয়। আপনার পরিবারের সুনির্দিষ্ট জীবনযাত্রার মান, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং শহরভেদে এই খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *