৯ম পে-স্কেল ও বৈষম্যমুক্ত বেতন কাঠামোর দাবিতে সরব সরকারি কর্মচারীরা: জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও দোয়া মাহফিল
জাতীয় প্রেস ক্লাবে আজ শনিবার বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সম্মেলনে ১১-২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বৈষম্য দূরীকরণে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান দাবি ও সংবাদ সম্মেলনের সারসংক্ষেপ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান নিশ্চিত করতে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা এখন সময়ের দাবি। তাদের উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন: ১:৪ অনুপাতে ১২টি গ্রেডের ভিত্তিতে বৈষম্যহীন নতুন পে-স্কেল দ্রুত কার্যকর করা।
সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ: বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩৫,০০০ টাকা নির্ধারণ।
টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড: পূর্বের ন্যায় টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করা।
অভিন্ন নিয়োগ বিধি: সকল দপ্তর ও অধিদপ্তরে এক ও অভিন্ন নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন এবং সচিবালয়ের ন্যায় পদনাম পরিবর্তন।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর স্মরণে শ্রদ্ধা
সংবাদ সম্মেলন শেষে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রসেনানী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ তার স্মরণে বলেন, “হাদী ভাই ছিলেন আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের এক অকুতোভয় কণ্ঠস্বর। তার আদর্শ আমাদের সকল ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
অনুষ্ঠানে শহীদ হাদীর বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
নেতৃবৃন্দের হুঁশিয়ারি
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি অতি দ্রুত ৯ম পে-স্কেল নিয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তবে সারা দেশের ১৮ লক্ষ সরকারি কর্মচারী আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


