সর্বশেষ প্রকাশিত

নিজের দাবি আদায়ে সোচ্চার হোন: নেতাদের ওপর ভরসা না করে জনমত তৈরির ডাক

সরকারি চাকুরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায়ের আন্দোলনে এক নতুন মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজপথের আন্দোলনের প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে এখন ‘ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা’ এবং ‘ডিজিটাল প্রচারণার’ ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নেতাদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সাধারণ চাকুরিজীবীদের নিজেদের দাবি আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

নেতাদের সীমাবদ্ধতা ও বাস্তব চিত্র

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, চাকুরিজীবীদের অধিকার আদায়ে গঠিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অনেক সময় কর্মসূচি দিতে দ্বিধাবোধ করেন। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে—চাকুরি হারানোর ভয় এবং পরবর্তী সময়ে সহকর্মীদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কোনো নেতা চাকুরিজীবীদের স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে বিপদে পড়লে, সাধারণ কর্মীরা তার পাশে দাঁড়ান না। এই ‘একাকীত্বের ভয়’ নেতাদের পিছুটান তৈরি করছে।

নির্বাচনের আগে আইনি বাস্তবতা

তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনের বড় একটি অংশ নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যায়। এই সময়ে হুট করে রাস্তায় নামা বা সভা-সমাবেশ করার ক্ষেত্রে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা থাকে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাস্তায় না নেমেও দাবি আদায় সম্ভব। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জনমত তৈরি করা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

দাবি আদায়ের কৌশল: যা করা প্রয়োজন

সংবাদ বিশ্লেষণে উঠে আসা দাবি আদায়ের কার্যকর কিছু দিক হলো:

  • ব্যক্তিগত সচেতনতা: নেতার অপেক্ষায় না থেকে প্রতিটি চাকুরিজীবীকে নিজ নিজ জায়গা থেকে যৌক্তিক দাবিগুলো তুলে ধরতে হবে।

  • ডিজিটাল প্রচারণা: ফেসবুক, টুইটার বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে নতুন পে-স্কেলের প্রয়োজনীয়তা এবং বর্তমান বাজারদরের সাথে জীবনযাত্রার ব্যয়ের অসংগতি তুলে ধরা।

  • একতা ও সংহতি: কেউ বিপদে পড়লে বা চাকুরির ঝুঁকির মুখে পড়লে বাকিরা যেন সমস্বরে তার পাশে দাঁড়ান, সেই নিশ্চয়তা তৈরি করা।

  • দায়িত্বশীল আচরণ: উগ্রপন্থা পরিহার করে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে (যেমন: মুদ্রাস্ফীতির হার বনাম বর্তমান বেতন) দাবিগুলো উপস্থাপন করা।

মূল বার্তা

“নিজের দাবি নিজে আদায় করতে শিখুন”—এই স্লোগান এখন সাধারণ চাকুরিজীবীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। চাকুরিজীবীদের অভিমত, যদি সবাই নতুন পে-স্কেল চান এবং নিজেদের দাবির প্রতি সৎ থাকেন, তবে ঘরে বসেই জোরালো দাবি তোলা সম্ভব। নেতাদের ওপর দায় না চাপিয়ে প্রত্যেককে একেকজন ‘প্রচারক’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *