আর কত অপেক্ষা? ‘পেটে ক্ষুধা নিয়ে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে ক্লান্ত’ কর্মচারীরা: দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি
“হাজারো কর্মচারীর পেটের ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টায় বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে দৌড়েছি। আর পারছি না! দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।”—ক্ষোভ ও আর্তনাদ মেশানো এই শব্দগুলো এখন দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা এখন আর কোনো আশ্বাস নয়, বরং সরাসরি নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন।
১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকরের আল্টিমেটাম
সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং কর্মচারী প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সাধারণ কর্মচারীদের দাবি, সরকার যেন আর সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে। বিশেষ করে, ১লা জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে এই নতুন স্কেল ভূতাপেক্ষভাবে (Retrospective effect) কার্যকর করার জোরালো দাবি উঠেছে।
অসন্তোষের নেপথ্যে তথ্যাদি বিশ্লেষণ
বর্তমান পরিস্থিতির গভীরতা বিশ্লেষণে কয়েকটি প্রধান কারণ সামনে আসছে:
মূল্যস্ফীতির চাপ: গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট তার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। ফলে প্রকৃত আয় কমেছে বিশাল একটি অংশের।
আর্থিক বৈষম্য: উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনার দাবি দীর্ঘদিনের। নতুন পে স্কেলে এই বৈষম্য নিরসনের প্রত্যাশা সবার।
দাপ্তরিক দীর্ঘসূত্রতা: নতুন পে স্কেল বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দপ্তরে দপ্তরে দেন-দরবার করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সুখবর না আসায় কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
কর্মচারী নেতাদের বক্তব্য
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী নেতা বলেন, “আমরা বিভিন্ন দপ্তরে আমাদের দাবি পেশ করেছি। নিচুতলার কর্মচারীরা আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে। আমরা চাই সরকার দ্রুত এই সংকটের সমাধান করুক। ১লা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করে গেজেট প্রকাশ করা এখন সময়ের দাবি।”
প্রত্যাশিত পদক্ষেপ
সাধারণ কর্মচারীরা মনে করছেন, সরকার যদি দ্রুত এই বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে মাঠপর্যায়ে কাজের গতি ও উদ্দীপনা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন সবার চোখ অর্থ মন্ত্রণালয়ের দিকে—কবে আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত গেজেট?
এখন সরকারি কর্মচারীগন গেজেট দেখতে চায়
পে স্কেল ও গেজেট প্রকাশের সর্বশেষ পরিস্থিতি (জানুয়ারি ২০২৬)
১. ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা: পে-কমিশন তাদের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্থ উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই গেজেট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
২. বাজেটে ২২ হাজার কোটি টাকার সংস্থান: সরকার ইতিমধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এটি প্রমাণ করে যে, সরকার নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে।
৩. ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকরের সম্ভাবনা: যদিও গেজেট এখনো হাতে আসেনি, তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে, গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও এটি ১লা জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই ভূতাপেক্ষভাবে (বকেয়াসহ) কার্যকর করার জোরালো প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ, গেজেট ফেব্রুয়ারিতে আসলেও কর্মচারীরা জানুয়ারির বেতন নতুন স্কেল অনুযায়ী বকেয়াসহ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
৪. গ্রেড ও বেতনের পরিবর্তন: প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বর্তমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৬,০০০ থেকে ২১,০০০ টাকার মধ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন কর্মচারীরা যা করতে পারেন
অফিসিয়াল গেজেট সাইট নজর রাখা: গেজেট প্রকাশিত হওয়া মাত্রই তা বাংলাদেশ গভর্মেন্ট প্রেস (BG Press) এর ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে।
ধৈর্য ও ঐক্য: বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ইতিমধ্যে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশের আল্টিমেটাম দিয়েছে। ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমার পর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপই হবে চূড়ান্ত।

