সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৯ম পে স্কেলের খসড়া প্রস্তাব: সর্বনিম্ন বেতন ২৫,৮০০ ও সর্বোচ্চ ১,৯৭,৫০০ টাকার সুপারিশ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘৯ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৫’ এর একটি খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে । বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন কর্তৃক প্রণীত এই প্রস্তাবনায় বিদ্যমান বেতন কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে ।
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো: খসড়া প্রস্তাবে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হলেও বেতনের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে । এতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,৮০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা (নির্ধারিত) থেকে বাড়িয়ে ১,৮০,৫০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে । এছাড়া বিশেষ ও সুপার গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ১,৯৭,৫০০ টাকা পর্যন্ত বেতনের প্রস্তাব রয়েছে ।
পদোন্নতি ও ইনক্রিমেন্ট:
সকল গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য অন্তত ৪টি পদোন্নতির সুযোগ রেখে একটি সুনির্দিষ্ট ‘প্রমোশন ট্রি’ তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে ।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বিদ্যমান ৫% হারের পরিবর্তে সকল গ্রেডের জন্য নির্দিষ্ট ৩,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বৈষম্যের শিকার না হন ।
কোনো অযোগ্যতা না থাকলে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জিত হওয়ার সাথে সাথেই পদোন্নতি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে ।
ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা:
বাড়ি ভাড়া: বর্তমান বাড়ি ভাড়া কাঠামো পরিবর্তন করে ২০% বাড়ি ভাড়া এবং ৪০% জীবনযাপন ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে ।
চিকিৎসা ভাতা: সাধারণ কর্মচারীদের জন্য মাসিক চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে অবসরভোগীদের জন্য ৭,৫০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে ।
শিক্ষা সহায়ক ভাতা: সন্তানপ্রতি শিক্ষা ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে ।
যাতায়াত ভাতা: সিটি কর্পোরেশন এলাকার কর্মচারীদের জন্য যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে ।
পেনশন ও গ্র্যাচুইটি: অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধার্থে পেনশনের হার শেষ বেতনের ৯০% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করার এবং গ্র্যাচুইটির হার বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে । এছাড়া স্বেচ্ছায় অবসরের সময়সীমা ১৫ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে ।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের সর্বশেষ পে স্কেলের পর ১০ বছর পার হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো না আসায় সরকারি কর্মচারীরা অর্থনৈতিক সংকটে দিনাতিপাত করছেন । বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় পে কমিশন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে ।

৯ম জাতীয় পে স্কেলের খসড়া ২০২৬
বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি কিভাবে হবে?
৯ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৫ (প্রস্তাবিত) এর খসড়া অনুযায়ী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের নিয়মাবলী নিচে দেওয়া হলো:
নির্ধারিত পরিমাণ ইনক্রিমেন্ট: বিদ্যমান বেতন কাঠামোতে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল বেতনের ৫% হারে হওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রস্তাবিত নতুন স্কেলে এটি সকল গ্রেডের জন্য নির্ধারিত ৩,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে ।
বৈষম্য দূরীকরণ: বর্তমানের শতাংশ (percentage) ভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতিতে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বেশি হারে বাড়ে, যা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বৈষম্যমূলক । সকল গ্রেডের জন্য সমান ৩,০০০ টাকা ইনক্রিমেন্ট এই বৈষম্য দূর করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।
কার্যকর হওয়ার তারিখ: প্রতি বছর ০১ জুলাই তারিখ থেকে এই ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হবে ।
ন্যূনতম চাকরিকাল: প্রথম ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার জন্য চাকরিকাল ন্যূনতম ০৬ (ছয়) মাস হতে হবে ।
যোগদানের সময়সীমা: ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্তির জটিলতা এড়াতে চাকরিতে যোগদানের সময় ০১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে ০১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে যোগদানের সময়সীমা পরিহার করা যায় ।
গ্রেডের শেষ ধাপে ইনক্রিমেন্ট: যদি কোনো কর্মচারী তার বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে পৌঁছে যান এবং পরবর্তী পদোন্নতি না পান, তবে পদোন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিনি ৫% হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন ।

