সর্বশেষ প্রকাশিত

৫ দফা দাবিতে উত্তাল সরকারি কর্মচারীরা ২০২৫ । ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম

৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সাংগঠনিক সংসদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের ঘোষিত এই কর্মসূচিতে ডিসেম্বরের মধ্যেই বেতন কমিশনের রিপোর্ট জারি এবং ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা ‘৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন চাই—আজ নয়, এখনই!’, ‘অস্থায়ী নয়—স্থায়ী করো!’, এবং ‘সমান কাজ, সমান বেতন—গণকর্মচারীর দাবি বৈধ’ স্লোগান দেন।

মূল দাবি ও আল্টিমেটাম

সমাবেশ থেকে বক্তারা ৫ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং হুঁশিয়ারি দেন যে নিরাপদ ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রধান দাবিগুলো হলো:

  • ১লা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন: ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যেই বেতন কমিশনের রিপোর্টের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

  • টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও পেনশন প্রথা পুনর্বহাল: শতভাগ পেনশন প্রথা পুনর্বহালসহ প্রশাসনিক ও আর্থিক বৈষম্য দূরীকরণ।

  • অভিন্ন নিয়োগবিধি ও জাতীয় সার্ভিস কমিশন গঠন: সচিবালয়ের মতো অভিন্ন নিয়োগবিধি এবং জাতীয় সার্ভিস কমিশন গঠন করতে হবে।

  • অস্থায়ী কর্মচারীদের দ্রুত নিয়মিতকরণ: ওয়ার্কচার্জ, কন্টিনজেন্ট, দৈনিক মজুরিসহ সকল অস্থায়ী কর্মচারীকে দ্রুত নিয়মিত করতে হবে।

  • অন্যান্য দাবি: ন্যায্যমূল্যে মানসম্পন্ন রেশন প্রদান, বিদ্যমান ব্লকপোস্টে পদোন্নতি ব্যবস্থা, এবং আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা।

️ চলমান কর্মসূচি

কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মচারীরা ২৪ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশের সকল দপ্তর ও জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ চালাচ্ছেন। বক্তারা জানান, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়ে এই ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত আল্টিমেটাম জানানো হবে।

কর্মচারীরা দৃঢ়ভাবে বলেছেন, ‘প্রজ্ঞাপন ছাড়া ঘরে ফিরবে না কর্মচারীরা!’ এবং ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক হও!’। তারা মনে করেন, ‘Equal Pay for Equal Work’ এবং ‘Job Security is a Right, Not a Gift’—এগুলো কেবল স্লোগান নয়, গণকর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার।


এই আন্দোলন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা জানতে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের স্মারকলিপি প্রদানের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এবার না হলে আর হবে না?

সরকারি কর্মচারী সমিতির ব্যানারে যে বিক্ষোভ ও আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে, তার স্লোগান ও বক্তব্যের মূল সুর হলো—এবারই দাবি আদায় করতে হবে, নয়তো আন্দোলন থামবে না। বক্তাদের নিম্নলিখিত কঠোর মন্তব্যগুলো থেকে বোঝা যায়, তারা এটিকে একটি “এখন বা কখনও নয়” (Now or Never) পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন:

১. “৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন চাই—আজ নয়, এখনই!” (পে-স্কেল বাস্তবায়নে আর বিলম্ব নয়)। ২. “প্রজ্ঞাপন ছাড়া ঘরে ফিরবে না কর্মচারীরা!” (দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটবেন না)। ৩. নিরাপদ ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে—এমন হুঁশিয়ারি।

এর অর্থ কী হতে পারে?

  • চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি: কর্মচারীরা মনে করছেন, এই ব্যাপক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব, বিশেষ করে ২০২৫ সালের শেষ দিকে এসে যখন পে-স্কেল রিপোর্ট প্রকাশের সময়সীমা কাছাকাছি।

  • আর দীর্ঘসূত্রিতা নয়: পূর্ববর্তী পে-স্কেলগুলো বাস্তবায়নে যে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা গেছে, এবার তারা সেটি চান না। ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্টের প্রজ্ঞাপন এবং ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাস্তবায়ন করার সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে তারা সময় বেঁধে দিয়েছেন।

  • সকল বৈষম্য দূরীকরণ: পে-স্কেলের পাশাপাশি টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল এবং অভিন্ন নিয়োগবিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দাবিগুলোও এবার সংযুক্ত করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে কর্মচারীদের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।

সুতরাং, তাদের অবস্থানের মূল কথা হলো—“আর হবে না” বলতে তারা বোঝাতে চাইছেন যে, এইবারের আল্টিমেটাম সফল না হলে ভবিষ্যতে তাদের আন্দোলনের রূপ আরও কঠোর হতে পারে, কিন্তু দাবি আদায়ের সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। তারা সফল হওয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *