সরকারি কর্মচারীদের পে স্কেল প্রস্তাব : নতুন পে-স্কেল, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার করার প্রস্তাব হওয়া উচিত
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত হয়েছে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবনা। গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ৯ম জাতীয় বেতন কমিশন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে বেতন সর্বোচ্চ ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর মূল সুপারিশসমূহ
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য কমাতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রধান প্রস্তাবনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সর্বনিম্ন বেতন: ২০তম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ বেতন: ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বেতন বৃদ্ধি: বিভিন্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ১০০% থেকে ১৪৭% পর্যন্ত হতে পারে।
ভাতা বৃদ্ধি: টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা এবং বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০% থেকে বাড়িয়ে ৫০% করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ সুবিধা: প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘হেলথ ইন্স্যুরেন্স’ বা স্বাস্থ্যবিমা চালু এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য মাসিক ২,০০০ টাকা বিশেষ ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্য চমক
অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্যও কমিশন বড় সুখবর দিয়েছে। যারা বর্তমানে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের পেনশন ১০০% বৃদ্ধির জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৭৫ বছরের বেশি বয়সের পেনশনভোগীদের জন্য মাসিক ১০,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাস্তবায়ন সময়কাল ও চ্যালেঞ্জ
কমিশন তাদের প্রতিবেদনে এই নতুন কাঠামো ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই ২০২৬ (নতুন অর্থবছর) থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
“পে কমিশনের প্রতিবেদনটি কেবল গ্রহণ করা হয়েছে। এটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন বা সংশোধনের সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকার গ্রহণ করবে।”
এই বিশাল বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকার বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে।
একনজরে প্রস্তাবিত বেতন চার্ট (সম্ভাব্য)
| গ্রেড | বর্তমান মূল বেতন (২০১৫) | প্রস্তাবিত নতুন মূল বেতন (২০২৬) |
| ১ম গ্রেড | ৭৮,০০০ টাকা | ১,৬০,০০০ টাকা |
| ৯ম গ্রেড | ২২,০০০ টাকা | ৪৬,০০০ – ৫০,০০০ টাকা |
| ১০ম গ্রেড | ১৬,০০০ টাকা | ৩৫,০০০ – ৪০,০০০ টাকা |
| ২০তম গ্রেড | ৮,২৫০ টাকা | ২০,০০০ টাকা |
বাজারের ঊর্ধ্বমূল্যের এই সময়ে নতুন এই পে-স্কেলের প্রস্তাবনা সরকারি কর্মচারীদের মনে আশার আলো দেখালেও, এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আরও কিছু প্রশাসনিক ধাপ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

