সরকারি দপ্তরে দৈনিক ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগে নতুন নীতিমালা জারি
সরকারি কাজে গতিশীলতা আনা এবং জরুরি প্রয়োজনে জনবল সংকট মেটাতে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত হয়েছে “দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা, ২০২৫” । গত ১৫ এপ্রিল ২০২৫ (০২ বৈশাখ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) তারিখে জারি হওয়া এই নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ।
অনেকে একে ‘আউটসোর্সিং নীতিমালা’র সাথে গুলিয়ে ফেললেও, এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি স্বতন্ত্র নীতিমালা। এতে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগের ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০১৮’ (বা এর সংশোধিত সংস্করণ) এর আওতাভুক্ত সেবাসমূহের বিপরীতে কোনোভাবেই এই নীতিমালার অধীনে শ্রমিক নিয়োগ করা যাবে না ।
নীতিমালার মূল দিকসমূহ:
১. প্রয়োগ ও আওতা: এই নীতিমালাটি সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, দপ্তর এবং স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে । এটি শুধুমাত্র জরুরি এবং অত্যাবশ্যক কাজের জন্য সাময়িকভাবে নিয়োজিত শ্রমিকের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, যা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত জনবল দ্বারা করা সম্ভব নয় ।
২. নিয়োগের শর্ত ও সময়সীমা:
কর্মদিবস: একজন সাময়িক শ্রমিককে মাসে সর্বোচ্চ ২২ (বাইশ) দিনের বেশি সময়ের জন্য কোনোভাবেই নিয়োজিত রাখা যাবে না ।
পদের সীমাবদ্ধতা: সাময়িক শ্রমিক নিয়োগের জন্য কোনো স্থায়ী পদ সৃজন করা যাবে না এবং অনুমোদিত শূন্য পদ বা নিয়মিত পদের বিপরীতে তাদের নিয়োগ দেওয়া নিষিদ্ধ ।
ডিজিটাল ডাটাবেজ: নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে শ্রমিকের এনআইডি (NID) বা জন্ম নিবন্ধনসহ যাবতীয় তথ্যের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ সংরক্ষণ করতে হবে ।
৩. শ্রমিকের যোগ্যতা:
শ্রমিককে অবশ্যই জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে ।
বয়সসীমা হতে হবে ১৮ থেকে ৫৮ বছরের মধ্যে ।
শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম হতে হবে এবং স্থানীয় প্রতিনিধি কর্তৃক ইতিবাচক চারিত্রিক প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে ।
৪. মজুরি ও আর্থিক সুবিধা:
শ্রমিকের মজুরির হার অর্থ বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত হবে ।
নির্ধারিত মজুরি ব্যতীত অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা তারা প্রাপ্য হবেন না ।
মজুরি অবশ্যই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এর মাধ্যমে প্রদান করতে হবে ।
মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে নারী, পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের মধ্যে কোনো বৈষম্য করা যাবে না ।
৫. কর্মপরিবেশ ও সুরক্ষা: নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে শ্রমিকের জন্য নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে । বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য নারী-বান্ধব পরিবেশ এবং কাজের সময় পরিবেশের ওপর যেন কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ।
নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোম্পানি আইন ১৯৯৪, সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ১৮৬০ বা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এই নীতিমালার আওতা বহির্ভূত থাকবে । এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়োগ বিধি রয়েছে, তারা অর্থ বিভাগের মতামত গ্রহণ সাপেক্ষে তা সংশোধন করে নেবে।
ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার (অর্থ সচিব) স্বাক্ষরিত এই নীতিমালাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি দপ্তরের জরুরি কাজগুলো আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে ।
সরকারি দপ্তরে দৈনিক ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগে নতুন নীতিমালা জারি

