দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা: ঐক্য পরিষদের কর্মসূচী বৃদ্ধি ও ‘ভূখা মিছিলের’ ডাক
সংখ্যালঘু স্বার্থ রক্ষা এবং সাত দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনরত হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচীর সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। একইসঙ্গে আগামী শুক্রবার রাজধানীসহ সারাদেশে বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
কর্মসূচীর সময়সীমা বৃদ্ধি
পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচী বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। মূলত আন্দোলনকে বেগবান করতে এবং নেতাকর্মীদের সংহতি প্রকাশের সুযোগ দিতেই এই সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার ‘ভূখা মিছিল’ ও গণজমায়েত
আগামী শুক্রবারের জন্য আরও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী:
সময়: শুক্রবার সকাল ৯টা।
স্থান: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা।
কর্মসূচী: শহীদ মিনারে বিশাল গণজমায়েত শেষে যমুনা (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) অভিমুখে ‘ভূখা মিছিল’।
‘বাধা দিলেই বিক্ষোভ’
ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, শুক্রবারের এই শান্তিপূর্ণ মিছিলে যদি কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা বাধা সৃষ্টি করা হয়, তবে আন্দোলন থামবে না। বরং যেখানেই বাধা আসবে, সেখানেই তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচী শুরু হবে।
“আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে মাঠে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।” — ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সাত দফা দাবি জানিয়ে আসছে ঐক্য পরিষদ। সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না আসায় তারা এই রাজপথের আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ: শুক্রবারের এই ‘ভূখা মিছিল’ কর্মসূচিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যমুনা অভিমুখে যাত্রা করার ঘোষণা প্রশাসনের সাথে এক ধরণের সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সংগঠনটি বারবার ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনের কথা পুনর্ব্যক্ত করছে।

