পরবর্তী সরকারের জন্য ‘স্বস্তিদায়ক’ অর্থনীতি রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার: অর্থ উপদেষ্টা
পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এই দাবি করেন।
উপদেষ্টা জানান, বিগত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতি যে নড়বড়ে অবস্থায় ছিল, তা গত দেড় বছরে একটি টেকসই কাঠামোয় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও চ্যালেঞ্জ
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা যখন দায়িত্ব নিই, তখন অর্থনীতি ছিল ছন্নছাড়া। গত ১৮ মাসে আপ্রাণ চেষ্টায় আমরা একটি স্বস্তিদায়ক অবস্থা তৈরি করেছি।” তবে এই উন্নয়নের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও তিনি অকপটে স্বীকার করেন।
প্রকল্প সংকোচন ও কর্মসংস্থান: আগের সরকারের নেওয়া অনেক অপ্রয়োজনীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণীত প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অপচয় কমলেও সাময়িকভাবে কর্মসংস্থান কিছুটা কমেছে, যা আগামী সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে তিনি মনে করেন।
বিনিয়োগ বৃদ্ধি: কর্মসংস্থানের ঘাটতি মেটাতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নতুন পে-স্কেল ও অর্থের জোগান
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি জানান:
বর্তমান সরকারই নতুন পে-স্কেলের প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করে যাচ্ছে।
পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না, কারণ এটি একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
তবে প্রশাসনিক ও কারিগরি কারণে এটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
নির্বাচনের বাজেট ও গণভোট প্রসঙ্গ
এবারের জাতীয় নির্বাচনে বরাদ্দের আধিক্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন এক বিশেষ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বরাদ্দ বেশি রাখা হয়েছে মূলত গণভোটের আয়োজনের জন্য।
“সরকার গণভোটের জন্য আলাদা বরাদ্দ রেখেছে। তবে এটি কোনোভাবেই বিতর্কিত ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের জন্য নয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করতেই এই ব্যবস্থা,” বলেন অর্থ উপদেষ্টা।
সংক্ষেপে প্রধান দিকসমূহ:
| খাত | বর্তমান অবস্থা/সিদ্ধান্ত |
| অর্থনীতির সামগ্রিক রূপ | নড়বড়ে অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতায় প্রত্যাবর্তন। |
| পে-স্কেল | অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত; পরবর্তী সরকারের জন্য এটি বাধ্যতামূলক। |
| নির্বাচন বাজেট | গণভোটের অন্তর্ভুক্তির কারণে আগের চেয়ে বেশি বরাদ্দ। |
| কর্মসংস্থান | অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় কিছুটা হ্রাস, যা সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ। |
বিশ্লেষণ: অর্থ উপদেষ্টার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, অন্তর্বর্তী সরকার কেবল সংস্কার নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক দায়বদ্ধতা (যেমন পে-স্কেল) নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ এক্সিট রুট তৈরি করছে। গণভোটের জন্য বরাদ্দ রাখার বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

