নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকার দাবি: আলোচনায় সরকারি কর্মচারীরা
দেশের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন ‘নবম পে-স্কেল’। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে পরিবার চালানো দাহ্য হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ কর্মচারীরা। এই প্রেক্ষাপটে আগামী জানুয়ারি থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো দাবি উঠেছে।
প্রধান দাবি: সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা
সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং কর্মচারীদের আলাপচারিতা থেকে জানা গেছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩৫,০০০ টাকা করার দাবি জানানো হচ্ছে। কর্মচারীদের মতে, এই পরিমাণ বেতন নিশ্চিত করা গেলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা তাদের পরিবার নিয়ে অন্তত ডাল-ভাত খেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারবেন।
দাবির নেপথ্যে যে কারণগুলো
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: চাল, ডাল, তেলসহ প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে।
পারিবারিক সুরক্ষা: সন্তানদের শিক্ষা এবং পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে বর্তমান স্কেল অপ্রতুল।
দীর্ঘ ব্যবধান: ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন পূর্ণাঙ্গ স্কেল ঘোষণা করা হয়নি।
সরকারের বর্তমান তৎপরতা
বর্তমানে পে-কমিশনের কাজ এবং বেতন কাঠামোর পুনর্গঠন নিয়ে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সর্বনিম্ন বেতন কত হবে এবং গ্রেডগুলোর ব্যবধান কেমন হবে—তা নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ চলছে। কর্মচারীদের প্রত্যাশা, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মানবিক দিক বিবেচনা করে একটি সম্মানজনক পে-স্কেল উপহার দেবেন।
“পেটে ভাত না থাকলে কেউ খোঁজ রাখে না। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নবম পে-স্কেল এখন সময়ের দাবি।” — জনৈক সরকারি কর্মচারী।
কর্মসূচি ও প্রত্যাশা
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীরা তাদের এই দাবির কথা উচ্চকণ্ঠে বলছেন। জানা গেছে, আগামী ২১ তারিখ পর্যন্ত এই জনমত গঠন ও দাবি জানানোর প্রক্রিয়া চলবে। কর্মচারীরা আশাবাদী, সরকার তাদের এই যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।


