৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নবম পে-স্কেলের আল্টিমেটাম সরকারি কর্মচারীদের; কর্মসূচি স্থগিত
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পূর্বনির্ধারিত কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছে সরকারি কর্মচারীরা। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ এবং বর্তমান রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এই ঘোষণা দেন।
শোক ও দোয়া মাহফিল
সংবাদ সম্মেলনে মূলত আন্দোলনের নতুন রূপরেখা ঘোষণার কথা ছিল। তবে শুরুতেই শহীদ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বক্তারা বলেন, ওসমান হাদি আজীবন বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তার আদর্শকে ধারণ করেই সরকারি কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সাত দফা দাবি ও আল্টিমেটাম
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতারা তাদের সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের সুপারিশসহ গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
সচিবালয়ের সাথে অন্যান্য দপ্তরের বৈষম্য দূরীকরণ।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সংগতি রেখে বেতন কাঠামো নির্ধারণ।
কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন,
“আগামী ১ জানুয়ারির মধ্যে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা না গেলে, সারা দেশের সরকারি কর্মচারীরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা স্পষ্ট জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তারা দ্রুততম সময়ে বৈষম্য নিরসনের পদক্ষেপ আশা করছেন। ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী চূড়ান্ত কর্মসূচি দেশবাসীকে জানানো হবে।

