সর্বশেষ প্রকাশিত

১১ বছরের বৈষম্য নিরসনে নতুন পে-স্কেলের দাবি: ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের আহ্বান

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৈষম্যমুক্ত নতুন পে-স্কেল ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল থেকে সরকারকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে যেন, বড় কোনো কর্মসূচি ঘোষণার আগেই ডিসেম্বর-২০২৫ এর শেষ সপ্তাহের মধ্যে পে-স্কেল সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা ও গেজেট প্রকাশ করা হয়। একই সাথে নতুন এই বেতন কাঠামো ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

১১ বছরের পুঞ্জীভূত বেতন বৈষম্য সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ ১১ বছর পার হতে চলেছে। এই দীর্ঘ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে মধ্য ও নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে দিনাতিপাত করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সালের পে-স্কেলে বিদ্যমান গ্রেড বৈষম্য এবং পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে ইনক্রিমেন্ট ও মহার্ঘ ভাতার সমন্বয় না হওয়ায় কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই ১১ বছরের পুঞ্জীভূত বৈষম্য নিরসনে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী পে-স্কেল এখন সময়ের দাবি।

দাবির মূল পয়েন্টগুলো: * রিপোর্ট ও গেজেট: ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে পে-কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ এবং গেজেট জারি করতে হবে।

  • কার্যকরী তারিখ: নতুন কাঠামো অবশ্যই ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করতে হবে।

  • বৈষম্য দূরীকরণ: নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে গ্রেড ব্যবধান কমিয়ে আনা।

  • মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয়: বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে বেতন নির্ধারণ করা।

বড় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে এবার আর আশ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না তারা। যদি ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে গেজেট জারি না হয়, তবে সারা দেশে বৃহৎ ও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাধারণ কর্মচারীরা।

বিশেষজ্ঞ অভিমত অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি সেবা খাতের গতিশীলতা বজায় রাখতে কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা জরুরি। ১১ বছরের এই দীর্ঘ বিরতি কাটাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রশাসনে অসন্তোষ দানা বাঁধতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকারি কর্মচারীদের এখন একমাত্র চাওয়া কি?

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি বিবেচনা করলে, সরকারি কর্মচারীদের “একমাত্র চাওয়া” হিসেবে ‘একটি বৈষম্যহীন ও সম্মানজনক নতুন পে-স্কেল’-কে চিহ্নিত করা যায়। তবে এই চাওয়ার গভীরে আরও কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি মিশে আছে:


১. ১১ বছরের স্থবিরতা ভাঙা

২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১০-১১ বছর ধরে নতুন কোনো পে-স্কেল দেওয়া হয়নি। কর্মচারীদের প্রধান চাওয়া হলো, এই দীর্ঘ সময়ের পুঞ্জীভূত অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে ৯ম পে-স্কেল ঘোষণা করা।

২. বাজারদরের সাথে বেতনের সামঞ্জস্য

বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। কর্মচারীদের একমাত্র চাওয়া হলো এমন একটি বেতন কাঠামো, যা দিয়ে একজন সাধারণ কর্মচারী তার পরিবার নিয়ে সম্মানজনকভাবে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারেন।

৩. গ্রেড বৈষম্য নিরসন

১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। তাদের প্রধান চাওয়া হলো:

  • গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে আনা (যেমন: ২০টি গ্রেড থেকে ১০ বা ১২টি গ্রেডে রূপান্তর)।

  • উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের বেতনের বিশাল ব্যবধান কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনা।

৪. মহার্ঘ ভাতা নয়, স্থায়ী সমাধান

মাঝেমধ্যে ৫% বা ১০% বিশেষ সুবিধা বা মহার্ঘ ভাতা নয়, বরং কর্মচারীরা চান একটি স্থায়ী গেজেট, যা তাদের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেবে।

৫. টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল

অষ্টম পে-স্কেলে বাতিল হওয়া টাইম স্কেল এবং সিলেকশন গ্রেড পুনরায় চালুর দাবি এখন তৃণমূল পর্যায়ের কর্মচারীদের মুখে মুখে। তারা চান পদোন্নতি না পেলেও যেন নির্দিষ্ট সময় পর পর তাদের বেতন বৃদ্ধি পায়।


সারসংক্ষেপ: কর্মচারীদের একমাত্র চাওয়া হলো— “ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে গেজেট জারি করে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে একটি বৈষম্যমুক্ত আধুনিক পে-স্কেল কার্যকর করা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hacklink Hacklink Satış бэклинки marsbahis hacklink market casibom marsbahis - marsbahis giriş