সর্বশেষ প্রকাশিত

১১তম গ্রেডসহ ৩ দফা দাবিতে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) মহাসমাবেশে যোগ দিচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা!

ঢাকা, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫: বেতন স্কেলসহ তিন দফা দাবি আদায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা আগামী শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশে যোগ দিতে পারেন। বেশ কয়েকটি শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ এবং ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ বর্তমানে লাগাতার কর্মসূচি পালন করছেন এবং এর অংশ হিসেবে এ সমাবেশ হতে পারে।

সারাদেশের প্রায় তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি প্রাথমিক শিক্ষকের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই মহাসমাবেশে অংশ নিতে পারে বলে জানা গেছে।

🔥 আন্দোলনের মূল কারণ ও কর্মসূচির গতিপ্রবাহ:

শিক্ষকদের প্রধান দাবিগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা বর্তমানে কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করছেন।

  • ১. ১১তম গ্রেডের দাবি: সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আপাতত ১১তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন দ্রুত জারির দাবি করছেন শিক্ষকরা।

  • ২. উচ্চতর গ্রেড জটিলতার অবসান: ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন করতে হবে।

  • ৩. বিভাগীয় পদোন্নতি: সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গত ৮ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচির পর সরকারি আশ্বাসে তারা কর্মস্থলে ফিরলেও, ২২ দিন পার হওয়ার পরও প্রতিশ্রুতির কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষক নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

🚨 চলমান কর্মসূচি:

  • ‘কমপ্লিট শাটডাউন’: দাবি পূরণ না হওয়ায় শিক্ষক সংগঠনগুলো গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা ‘তালাবদ্ধ’ কর্মসূচি শুরু করেছে।

  • পরীক্ষা বর্জন: এই লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক পরীক্ষা) বর্জিত হয়েছে, যার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা না দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

  • সরকারের হুঁশিয়ারি: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আন্দোলনকারী শিক্ষকদের শোকজ করে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং তা না মানলে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে। তবে শিক্ষকরা তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল।

আগামীকালের মহাসমাবেশ থেকে শিক্ষকরা তাদের দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিতে পারেন বলে শিক্ষক সংগঠনগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।


দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই শিক্ষক আন্দোলন কতদূর গড়ায় এবং সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hacklink Hacklink Satış бэклинки marsbahis hacklink market casibom marsbahis - marsbahis giriş