সর্বশেষ প্রকাশিত

সরকারি বেতন কাঠামোতে চরম বৈষম্য: ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘশ্বাস

বাংলাদেশের সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন কাঠামোর ইতিহাসে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং নিম্নধাপের কর্মচারীদের মধ্যে ব্যবধান কমানোর দাবি দীর্ঘদিনের। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ৫২ বছরে এই ব্যবধানের অনুপাতে কিছুটা পরিবর্তন এলেও বাস্তবিকভাবে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বিশেষ করে প্রস্তাবিত ২০২৫ সালের বেতন কাঠামোতেও নিচের দিকের গ্রেডগুলোতে বেতন বৃদ্ধির ব্যবধান অত্যন্ত ‘ক্ষীণ’ ও অমানবিক বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেতন বৈষম্যের ঐতিহাসিক চিত্র

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ছিল ১:১৫.৪। ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলে এই ব্যবধান কমিয়ে ১:৯.৪ এ নামিয়ে আনা হয়। আগামী ২০২৫ সালের জন্য প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে এই অনুপাত ১:৮ করার কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে।

সালবেতন বৈষম্য (অনুপাত)মন্তব্য
১৯৭৩১:১৫.৪বিশাল ব্যবধান
২০১৫১:৯.৪ব্যবধান কিছুটা হ্রাস
২০২৫ (প্রস্তাবিত)১:৮দৃশ্যত কম হলেও নিচের ধাপে বৈষম্য প্রকট

১১-২০ গ্রেড: যেখানে ব্যবধান মাত্র ‘এক হাজার’

তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, উচ্চধাপের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এক গ্রেড থেকে অন্য গ্রেডের বেতনের ব্যবধান যেখানে কয়েক হাজার টাকা, সেখানে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান অত্যন্ত নগণ্য। অভিযোগ উঠেছে, নিচের দিকের গ্রেডগুলোতে বেতন বৃদ্ধির ব্যবধান মাত্র ১০০০ টাকা হারে নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এক গ্রেড থেকে অন্য গ্রেডে পদোন্নতি বা ধাপ পরিবর্তনের সুবিধা যদি মাত্র ১০০০ টাকা হয়, তবে তা কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারবে না। এই ক্ষুদ্র ব্যবধানকে কর্মচারীরা “বিবেকের চরম অবক্ষয়” এবং “অমানবিক” হিসেবে অভিহিত করছেন।

ক্ষোভের মুখে কর্মচারীরা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিবালয় কর্মচারী জানান, “উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যখন কয়েক হাজার টাকা ইনক্রিমেন্ট পান, তখন আমাদের জন্য মাত্র ১০০০ টাকার ব্যবধান রাখা হয়েছে। এটি কেবল বৈষম্য নয়, বরং আমাদের মৌলিক প্রয়োজনের প্রতি চরম অবজ্ঞা।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেতন বৈষম্য নিরসনে কেবল অনুপাত (১:৮) কমিয়ে আনাই যথেষ্ট নয়, বরং নিচের দিকের গ্রেডগুলোর মধ্যে টাকার অঙ্কের ব্যবধান যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করা প্রয়োজন। ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনমানের কথা চিন্তা করে এই “ক্ষীণ” ব্যবধান দূর করা এখন সময়ের দাবি।

https://technicalalamin.com/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%aa/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hacklink Hacklink Satış бэклинки marsbahis hacklink market casibom marsbahis - marsbahis giriş