নতুন পে-কমিশন গঠন ও বেতন বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
দেশের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও বেতন বৈষম্য নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে একটি কার্যকর পে-কমিশন গঠন, গ্রেড সংখ্যা হ্রাস এবং বাতিলকৃত সুযোগ-সুবিধাগুলো পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান দাবিসমূহ
সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
গ্রেড সংখ্যা হ্রাস: বর্তমানে প্রচলিত ২০টি গ্রেডের সংখ্যা কমিয়ে একটি যৌক্তিক পর্যায়ে (যেমন ১০-১২টি) নিয়ে আসা, যাতে নিম্ন ও উচ্চ ধাপের মধ্যে ব্যবধান কমে।
টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল: পূর্বের পে-স্কেলে বিদ্যমান টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পদ্ধতি যা ২০১৫ সালে বাতিল করা হয়েছিল, তা পুনরায় চালু করা।
ইবিক্রস (Efficiency Bar) পদ্ধতি: কর্মচারীদের কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন হিসেবে এই পদ্ধতিটি বহাল রাখা।
দ্রুত রিপোর্ট প্রদান: নতুন পে-কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা এবং তা বাস্তবায়ন।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ
২০১৫ সালের বেতন কাঠামোর পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে নির্দিষ্ট আয়ের সরকারি কর্মচারীরা বিশেষ করে নিম্নধাপের (১১-২০ গ্রেড) কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে দিনাতিপাত করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল হওয়ায় অনেক কর্মচারী একই পদে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে পদোন্নতি না পেয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে আনলে এই স্থবিরতা দূর হবে এবং প্রশাসনে গতিশীলতা আসবে।
প্রত্যাশিত প্রভাব
যদি সরকার এই দাবিগুলো মেনে নিয়ে দ্রুত পে-কমিশনের রিপোর্ট কার্যকর করে, তবে:
কর্মচারীদের মধ্যে কাজের স্পৃহা বৃদ্ধি পাবে।
আর্থিক বৈষম্য হ্রাসের মাধ্যমে সামাজিক সমতা নিশ্চিত হবে।
সরকারি সেবার মান ও গতিশীলতা বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকার বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একটি ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক) পে-কমিশন ঘোষণা করবে।

