সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ নিয়ে আসছে নবম পে স্কেল
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন তাদের সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান গ্রেড কাঠামো অপরিবর্তিত রেখেই মূল বেতন সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করতে যাচ্ছে কমিশন।
চূড়ান্ত পর্যায়ে সুপারিশমালা
কমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নতুন বেতন কাঠামোর পাণ্ডুলিপি ইতিমধ্যে প্রস্তুত। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হতে পারে। এরপর প্রতিবেদনটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হবে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে তা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।
গ্রেড কাঠামো ও বেতন বৃদ্ধি
দীর্ঘদিন ধরে গ্রেড সংখ্যা কমানোর দাবি থাকলেও, কমিশন বিদ্যমান ১৬টি গ্রেডই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এবারের স্কেলের বিশেষত্ব হলো বেতন বৃদ্ধির হার। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী:
-
গ্রেডভেদে মূল বেতন প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
-
সবচেয়ে বেশি সুফল পাবেন নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
-
শিক্ষকদের জন্য থাকছে পৃথক বেতন কাঠামো, যা দীর্ঘদিনের একটি বিশেষ দাবি ছিল।
ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা
কেবল মূল বেতনই নয়, সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন অংশের দাবি মেনে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে এই সুপারিশমালায়।
কার্যকর হওয়ার সময়সীমা
সরকারি কর্মচারীরা ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের আল্টিমেটাম দিলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় লাগছে। তবে সাধারণ কর্মচারীদের মনে প্রশ্ন—২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকেই কি এই নতুন স্কেল কার্যকর হবে? নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি। সবটাই এখন নির্ভর করছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
প্রত্যাশা ও বাস্তবতা
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে তা হবে গত কয়েক দশকের মধ্যে সরকারি চাকরিতে সবচেয়ে বড় বেতন কাঠামোগত পরিবর্তন। এর ফলে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সাথে তাল মেলাতে সরকারি কর্মচারীরা আর্থিকভাবে বড় ধরনের স্বস্তি পাবেন।
