বিশেষ প্রতিবেদন: ৬ই ফেব্রুয়ারির আন্দোলন ও প্রশাসনের সম্ভাব্য ‘কৌশল’—সতর্কতা তুঙ্গে
আগামী ৬ই ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আন্দোলনকারীদের লক্ষ্যচ্যুত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘কৌশল’ বা ফাঁদ পাতা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্দোলনরত পক্ষগুলোর দাবি—তাদের মূল লক্ষ্য কেবল স্মারকলিপি প্রদান নয়, বরং নতুন পে স্কেলের গেজেট নিশ্চিত করা।
যে সম্ভাব্য ‘ফাঁদে’র কথা বলা হচ্ছে
সূত্রমতে, ৬ই ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নেওয়া হতে পারে। আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন যে:
মিথ্যা আশ্বাস: পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের পথরোধ করে অত্যন্ত অমায়িকভাবে বলা হতে পারে যে, আজ ফিরে যান এবং নির্দিষ্ট অন্য একদিন প্রধান উপদেষ্টার সাথে সরাসরি সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
সাক্ষাতের বিভ্রান্তি: পরবর্তীতে নির্ধারিত দিনে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হলেও, সেখানে মূল ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কোনো অধস্তন কর্মকর্তার সাথে দেখা করিয়ে দেওয়া হতে পারে।
ব্যস্ততার অজুহাত: ‘প্রধান উপদেষ্টা জরুরি মিটিংয়ে আছেন’—এমন অজুহাত দেখিয়ে কেবল একটি স্মারকলিপি জমা নিয়ে আন্দোলনকারীদের বিদায় করে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
সতর্কবার্তা: আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, একবার স্মারকলিপি দিয়ে ফিরে আসলে বিষয়টি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ধামাচাপা পড়ে যাবে। তাই ৬ই ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিকে ‘চূড়ান্ত’ হিসেবে দেখছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অবস্থান: “গেজেট ছাড়া ঘরে ফেরা নয়”
বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আন্দোলনকারীরা এবার আর কোনো মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস রাখতে রাজি নন। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী:
ফাঁদে পা না দেওয়া: প্রশাসনের কোনো প্রকার মধ্যস্থতা বা পরবর্তী সময়ে সাক্ষাতের প্রলোভনে কর্মসূচি ত্যাগ না করা।
সরাসরি ফলাফল: কেবল প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা বা গেজেট প্রকাশের নিশ্চয়তা পেলেই তারা রাজপথ ছাড়বেন।
দৃঢ় সংকল্প: “গেজেট নিয়ে বাড়ি ফিরবো”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশে কর্মী-সমর্থকদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকের অভিমত
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো বড় আন্দোলনের সময় প্রশাসন ‘সময়ক্ষেপণ’ (Time-killing) পদ্ধতি অবলম্বন করে যাতে আন্দোলনের গতি স্তিমিত হয়ে যায়। ৬ই ফেব্রুয়ারি যদি আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের দেওয়া বিকল্প প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়, তবে দাবি আদায়ের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
উপসংহার: আগামী ৬ই ফেব্রুয়ারির দিনটি প্রশাসনের দক্ষতা এবং আন্দোলনকারীদের ধৈর্যের এক বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। প্রশাসনের কৌশল বনাম আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থান—শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তাই এখন দেখার বিষয়।

