নবম পে-স্কেল: চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়নে বুধবার পূর্ণ কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সভা
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে যাচ্ছে। আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে জাতীয় বেতন কমিশনের (পে-কমিশন) পূর্ণাঙ্গ সভা ডাকা হয়েছে। এই সভায় বেতন কাঠামো ও গ্রেড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পে-কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সভার মূল আলোচ্য বিষয়
কমিশন সূত্র জানায়, বুধবারের সভায় মূলত দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে:
১. বেতন গ্রেডের সংখ্যা: বর্তমানের ২০টি গ্রেড কমিয়ে কয়টি করা হবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
২. বেতন নির্ধারণ: সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত টাকা হবে, তার একটি বাস্তবসম্মত সীমা নির্ধারণ করা হবে।
কমিশনের ওই কর্মকর্তা বলেন, “অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তবে বেতন গ্রেড এবং সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন চূড়ান্ত করতে পারলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেওয়া সম্ভব হবে।”
আন্দোলনের মুখেও ‘চুলচেরা বিশ্লেষণ’
নতুন পে-স্কেলের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের সাম্প্রতিক মহাসমাবেশ এবং আগামী বুধবার থেকে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণার মধ্যেও কমিশন তাদের স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের চাপের মুখে তড়িঘড়ি না করে বরং প্রতিটি দপ্তর, সংস্থা ও সংগঠন থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বাস্তবসম্মত একটি সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যেই এই ‘চুলচেরা বিশ্লেষণ’ চলছে।
সময়সীমা ও বর্তমান অবস্থা
অন্তর্বর্তী সরকার গত জুলাই মাসে নবম পে-কমিশন গঠন করে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও কর্মচারীদের দাবি ছিল ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরির কাজ এখনো প্রক্রিয়াধীন। বুধবারের সভায় সব বিষয়ে ঐকমত্য না হলে পরবর্তীতে আরও সভা ডাকার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
সারসংক্ষেপ: আগামী ৩১ ডিসেম্বরের সভাটি নবম পে-স্কেলের রূপরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সভার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর ভবিষ্যৎ।

