নবম পে-স্কেলে আসছে বড় পরিবর্তন: ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১৪টিতে নামানোর প্রস্তাব
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত এই বেতন কমিশন এখন ২০টি গ্রেড সংস্কার করে একটি বৈষম্যহীন কাঠামো তৈরির দিকে এগোচ্ছে। যদিও রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটির কারণে গত ৩১ ডিসেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ সভাটি স্থগিত হয়েছে, তবে কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দ্রুতই নতুন তারিখ নির্ধারণ করে গ্রেড সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গ্রেড সংস্কারে তিনটি প্রধান প্রস্তাবনা
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন বর্তমানে ২০টি গ্রেড নিয়ে তিনটি ভিন্নধর্মী প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে:
-
২০টি গ্রেড বহাল রাখা: বর্তমান কাঠামো ঠিক রেখে কেবল জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি।
-
১৬টি গ্রেডে রূপান্তর: গ্রেড সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে বেতন বৈষম্য লাঘব করা।
-
১৪টি গ্রেডের আমূল পরিবর্তন: এটিই সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব। কমিশনের অনেক সদস্য মনে করছেন, গ্রেড সংখ্যা ১৪টিতে নামিয়ে আনলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈষম্য একবারে দূর করা সম্ভব হবে।
কেন এই সংস্কারের উদ্যোগ?
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানের ২০টি গ্রেড পদ্ধতিতে উচ্চধাপ ও নিম্নধাপের কর্মচারীদের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেশি। এর ফলে নিম্নধাপের কর্মচারীরা আর্থিকভাবে চরমভাবে পিছিয়ে পড়ছেন। এই প্রকট বৈষম্য দূর করতে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের কাছ থেকে প্রাপ্ত হাজার হাজার মতামত বিশ্লেষণ করছে কমিশন। তাদের মূল লক্ষ্য একটি আধুনিক, বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য সুপারিশ তৈরি করা।
বাস্তবায়নের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া
কমিশন গঠনের সময় ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের দাবি ছিল, তবে কমিশন একটি নির্ভুল ও দীর্ঘমেয়াদী কার্যকরী রূপরেখা তৈরিতে সময় নিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরবর্তী বৈঠকেই গ্রেড সংখ্যার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে এই নতুন পে-স্কেল কবে নাগাদ কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে: ১. কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ পেশের ওপর। ২. সরকারের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। ৩. সংশোধিত বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ওপর।
সরকারি চাকরিজীবীদের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি বৈষম্যহীন বেতন কাঠামো উপহার দেওয়াই এখন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
