দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বেতন বৈষম্য: নতুন পে-স্কেলের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি
দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল ঘোষণার দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। প্রায় ১০ বছর ধরে বেতন বৃদ্ধি না হওয়া এবং নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে সরকারি চাকরিজীবীরা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির সদস্য শিমুল আহমেদসহ সরকারি কর্মচারীদের একটি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে এই আবেদন জানানো হয়।
প্রধান সংকটসমূহ:
স্মারকলিপিতে কর্মচারীরা বর্তমান জীবনযাত্রার যে কঠিন বাস্তবচিত্র তুলে ধরেছেন, তার মূল দিকগুলো হলো:
দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত বেতন: গত এক দশকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য কোনো কার্যকর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়নি।
অস্বাভাবিক বাজারমূল্য: চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসাভাড়া এখন সাধারণ কর্মচারীদের নাগালের বাইরে।
ঋণগ্রস্ত জীবন: নির্দিষ্ট বেতনের আয়ে সংসার চালাতে না পেরে অনেক কর্মচারী ধার-দেনা করে জীবনযাপন করছেন, যা তাদের মানসিক ও পেশাগত কর্মস্পৃহায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কর্মচারীদের বক্তব্য:
বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির সদস্য শিমুল আহমেদ জানান, “রাষ্ট্রের সেবা সচল রাখতে কর্মচারীরা দিনরাত কাজ করেন। কিন্তু বর্তমান বেতনে পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করাও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম শ্রেণির কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।”
দাবিসমূহ:
আবেদনে সরকারি কর্মচারীরা মূলত দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছেন:
পে-কমিশন গঠন: বর্তমান বাজার পরিস্থিতির আলোকে নতুন পে-কমিশন গঠন করে যুগোপযোগী বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা।
দ্রুত বাস্তবায়ন: জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা।
প্রত্যাশা:
সরকারি কর্মচারীরা আশা প্রকাশ করছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানবিক ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করবে। কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হলে সরকারি সেবার মান আরও গতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত হবে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

