সর্বশেষ প্রকাশিত

নবম পে-স্কেলের দাবিতে উত্তাল রাজপথ: নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ও কল্যাণ সমিতি গঠন

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য দূরীকরণ এবং নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে আন্দোলনে নতুন মোড় এসেছে। একদিকে নতুন একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ৭ দফা দাবি আদায়ে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।

১. নতুন সংগঠনের যাত্রা: ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’

৩১ জানুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার রক্ষায় ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’ নামে একটি নতুন অরাজনৈতিক ও কল্যাণমুখী সংগঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

  • আহ্বায়ক কমিটি: মো. আব্দুল মালেককে আহ্বায়ক এবং আশিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • লক্ষ্য: আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা এবং সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি ও কল্যাণে কাজ করা।

২. কঠোর আন্দোলনের ডাক: কর্মবিরতি ও ‘ভুখা মিছিল’

এদিকে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ তাদের ৭ দফা দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জানানো হয়:

  • ১-৩ ফেব্রুয়ারি: প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারা দেশে সরকারি দপ্তরগুলোর সামনে অবস্থান, বিক্ষোভ ও ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হবে।

  • ৬ ফেব্রুয়ারি: দাবি মানা না হলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ‘ভুখা মিছিল’ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

৩. কর্মচারীদের মূল দাবি ও ক্ষোভের কারণ

কর্মচারীদের ক্ষোভের মূলে রয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিপরীতে অপর্যাপ্ত বেতন এবং সম্প্রতি জ্বালানি উপদেষ্টার একটি মন্তব্য, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না। প্রধান দাবিগুলো হলো:

  • বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন ৩৫,০০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১,৪০,০০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করে ১২টি গ্রেডে নবম পে-স্কেল জারি করা।

  • ২০১৫ সালের পে-স্কেলে বাতিল হওয়া তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল।

  • স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পেনশনের ব্যবস্থা এবং গ্রাচুইটির হার ১০০ শতাংশ করা।

  • সচিবালয়ের ন্যায় সকল দপ্তরে এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন এবং রেশন পদ্ধতি চালু।

উপসংহার

গত ২১ জানুয়ারি পে-কমিশনের রিপোর্ট জমা হলেও সরকার গেজেট প্রকাশ না করে পুনরায় কমিটি গঠন করায় কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। আন্দোলনরত নেতাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বেতন কাঠামো দিয়ে জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহের কর্মসূচিগুলোর ওপর ভিত্তি করেই বোঝা যাবে সরকারের সাথে কর্মচারীদের এই টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hacklink Hacklink Satış бэклинки marsbahis hacklink market casibom marsbahis - marsbahis giriş