সর্বশেষ প্রকাশিত

৫ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে মানববন্ধনের ডাক: অবিলম্বে পে-স্কেল প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সরকারি চাকুরে ও শিক্ষকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারির দাবিতে রাজপথে নামার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশের কয়েক লাখ সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এমপিওভুক্ত, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি কর্মচারী নেতৃবৃন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সরকার যদি দ্রুত নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না করে, তবে সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ ও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

৫ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি ঘোষণা

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’ ইতোমধ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের প্রতিটি জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। জোটের নেতারা জানিয়েছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চূড়ান্ত বার্তা দেওয়া হবে এবং এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও বড় ধরনের কর্মসূচি যেমন ধর্মঘট বা সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু

আজকের সভায় সরকারি ও এমপিওভুক্ত কর্মচারী নেতৃবৃন্দ কয়েকটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন: ১. প্রজ্ঞাপন জারি: নবম পে-স্কেল বা বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত গেজেট প্রকাশ।

২. বৈষম্য দূরীকরণ: সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন।

৩. জাতীয়করণ: এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণের লক্ষ্যে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য ধরেছি। পে-কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলেও প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে টালবাহানা সহ্য করা হবে না। ৫ ফেব্রুয়ারির মানববন্ধন হবে আমাদের অধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ।”

পে-কমিশনের সুপারিশে যা আছে

উল্লেখ্য যে, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নবম জাতীয় বেতন কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। যেখানে সর্বনিম্ন বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিশন ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য টিফিন ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ৫ গুণ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। তবে সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, সুপারিশ জমা হলেও তা বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

প্রস্তুতির ডাক

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫ ফেব্রুয়ারির মানববন্ধনে অংশ নিতে এবং পরবর্তী যেকোনো আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, “যদি দাবি আদায় না হয়, তবে এবার দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তর অচল করে দেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hacklink Hacklink Satış бэклинки marsbahis hacklink market casibom marsbahis - marsbahis giriş